বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমঞ্চে: আলোকচিত্রে আবদুল গনির অসাধারণ যাত্রা
মাসুদ আল হাসান:
আবদুল গনি বাংলাদেশের ফটোসাংবাদিকতার জগতে এক সৃজনশীল এবং প্রভাবশালী
নাম। জলবায়ু পরিবর্তন, মানবিক বিপর্যয়,
সামাজিক বৈষম্য এবং জটিল রাজনৈতিক ঘটনাবলিকে তাঁর ক্যামেরার লেন্সে
জীবন্ত করে তোলার ক্ষেত্রে তিনি এক অনন্য মুন্সিয়ানা প্রদর্শন করেছেন। তাঁর প্রতিটি স্থিরচিত্র কেবল ঘটনার সাক্ষী নয়, বরং শোষিত
ও প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে বিশ্বদরবারে উপস্থাপিত হয়।
আবদুল গনির পেশাদার জীবনের হাতেখড়ি হয় ২০১২ সালে ঢাকার অনলাইন
নিউজ পোর্টাল
'দ্য নিউজ'-এর মাধ্যমে। নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে তিনি দ্রুতই মূলধারার সাংবাদিকতায় নিজের
স্থান করে নেন। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয়
ফটো ও নিউজ এজেন্সি 'ফোকাস বাংলা'-তে কাজ করে
তাঁর দক্ষতার প্রমাণ দেন। এরপর ২০১৯ সালে
তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জাতীয় সংবাদপত্র 'দৈনিক
ইত্তেফাক'-এ প্রধান ফটোসাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন এবং বর্তমানে
সেখানে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশীয় গণ্ডি পেরিয়ে
তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও সমানভাবে সক্রিয়। বর্তমানে তিনি
আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স এবং এএফপি-র মতো
বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থাগুলোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।
তাঁর তোলা আলোকচিত্রগুলো নিয়মিতভাবে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান
এবং দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের মতো বিশ্বসেরা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তিনি মূলত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম এবং সচরাচর প্রচারের আড়ালে
থাকা মানবিক গল্পগুলোকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পছন্দ করেন।
স্বীকৃতি হিসেবে আব্দুল গনি একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে
ভূষিত হয়েছেন। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর তিনি বিশ্বের
অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ 'হামদান ইন্টারন্যাশনাল ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড'
(HIPA)-এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন, যা তাঁর কাজের শ্রেষ্ঠত্বের এক বিশাল প্রমাণ। এছাড়াও, তাঁর দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত
প্রামাণ্যচিত্র “গনি”, প্রকৃতি ও
বিজ্ঞানভিত্তিক স্টোরিটেলিংয়ের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘জ্যাকসন
ওয়াইল্ড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস’-এ ‘গ্লোবাল
ভয়েসেস’ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার অর্জন করেছে। তাঁর এই অসামান্য সাফল্য বাংলাদেশের ফটোসাংবাদিকতাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে
এক নতুন উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং নতুন প্রজন্মের আলোকচিত্রীদের জন্য এক অনন্য
অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।